One Step Forward

Tuesday, April 24, 2018

প্রথম বসন্ত - মানসী

prothom_bosonto
ছবিটি সংগৃহীত
প্রথম বসন্ত

ভরের নিত্যতা সূত্র ব্যাখ্যা থামিয়ে 
হঠাৎ যদি প্রশ্ন করি ক্লাস নাইনের অঙ্কিতাকে 
প্রেমে পড়েছিস তাইনা?
কোথায় ছিলি এতক্ষণ?
এড়িয়ে যেতে চাইবে প্রাণপণে,
জানি ধরা দেবে না কিছুতেই।

কিন্তু তোর বিবাগী চোখের তারায়
হারিয়ে গেছিস তুই।
কেমন যেন সব নতুন নতুন,
এই দিন -রাত, আকাশ -বাতাস,
বৃষ্টি -বাদল, দুপুর -বিকেল,
আর আয়নায় তুই নতুন নিজে।

একটা কুঁড়ি সদ্য মেলছে নিজেকে,
সকালে সূর্যের নরম আলোর সোহাগে
আর দখিনার দোলায় 
একটা একটা করে খুলছে পাপড়ির বন্ধন। 
চোখ মেলে দেখছে নতুন পৃথিবী কে। 
একটা দুটো ভ্রমরের আনাগোনা।
কি ঋতু এখন? এটাই বসন্ত!

বইয়ের পাতায় পাতায় সিনেমা,
গান গাইছে কেউ।
দিবাস্বপ্ন সাইকোলজি সিলেবাসে।
বলবি আমায় তোর গল্পগুলো?
যেমন বলিস প্রিয়া কে, পূজা কে।
ভীষণ জানতে ইচ্ছে করে
সেই একই বসন্ত কি 
ঘুরে এসেছে তোরও কাছে ?

......মানসী ...

কৌশলে খাতা দেখার নাম কাটিয়ে দেন


exam-paper
ছবিটি সংগৃহীত

কৌশলে খাতা দেখার নাম কাটিয়ে দেন


এমন অনেক শিক্ষক শিক্ষিকা আছেন যারা কৌশলে খাতা দেখার নাম কাটিয়ে দেন। এমন প্রচুর উদাহরণ আছে। এই ব্যাপারে অনেক প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকা গনও ঐ সকল শিক্ষক শিক্ষিকা দের খাতা দেখার নাম কাটতে সাহায্য করেন। এই ক্ষেত্রে স্কুল প্রধান দের উদ্দেশ্য হল ওনার স্কুলে শিক্ষক শিক্ষিকা গন রোজ স্কুলে আসবেন। স্কুল ঠিক মত চলবে। খাতা দেখার ছুটি নেবেন না। শূধু স্কুলে পড়ালে হবে। পরীক্ষা ঠিক মতো নেওয়া ও খাতা দেখে সময় মতো ফল প্রকাশ করা এটাও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কোনো নেতিবাচক ধারণা থেকে বলা নয়,কিন্তু ৩ টি ভাষায় question paper আলাদা হলে আমাদের মত বয়স্কদের বহন করতে সুবিধা হয়,খাতা গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও student er ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ই এই কথা বলা।কারোর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থেকে নয় বরং সুন্দর করে কাজের জন্য ই বলা। যারা বিরূপ মন্তব্য করতে চান করুন। পুরো ব্যাপারটা আগে জানুন তারপর মন্তব্য করতে হলে করুন। এক মাত্র বিজ্ঞান বিষয়ে 50 বা কিছু বেশি খাতা পেয়ে থাকেন মাননীয় শিক্ষক শিক্ষিকা গন। কলা বিভাগের অবস্থা আগে জানুন তার পর না হয় মন্তব্য করবেন।

কবিতা - ও কিছু না - দেবাশিস লাহা

protest-against-rape
ছবিটি সংগৃহীত

ও কিছু না

কবি- দেবাশিস লাহা

"আয় তোকে আদর করি "
এই বলে মেয়েটার পিছু নিল এক হাজার দাঁত আর নখ !

ছুট ! ছুট! ছুট !
ছুটতে ছুটতে মাটি চিরে ফেললো মেয়েটার পা 
বললো -- আমায় ফিরিয়ে নাও !
মাটি বললো না !
মেঘ ছুঁয়ে ফেললো ওড়না!
বললো -- "আমায় উড়িয়ে দাও "
মেঘ বললো না !
সূর্য ছুঁয়ে ফেলল চোখ 
বললো "আমায় পুড়িয়ে দাও "
সূর্য বললো না !
বাতাস জড়িয়ে ধরলো ঠোঁট 
বললো "আমায় কুড়িয়ে নাও "
বাতাস বললো না !

তবু ছুটতে থাকল মেয়েটা
ঘাসের উপর ছিটকে পড়ল স্কুল ব্যাগ! 
সকাল ফুরিয়ে দুপুর , দুপুর ফুরিয়ে বিকেল !
তবু পিছু ছাড়ল না থাবা ! 
শিশিরের মতো মিলিয়ে গেল দূরত্ব, 
এক দিন মেয়েটাকে ধরেই ফেললো ওরা

তারপর শুধু মট মট শব্দ !
এত কিছু ভাঙা যায় কে জানতো !
প্রথমে চুড়ি,
তারপর আঙুল আর হাত ,
তারপর পা !
সব কিছু ভাঙতে ভাঙতে আরও 
এগিয়ে এলো ওদের থাবা,
ঝনঝনিয়ে ভেঙে গেলো পুতুল বাড়ি,
টেডি বিয়ার--- 
আরও কত কি!

বাবার মুখ, ছোট্ট ভাই বিনুর চোখ ,
মামা বাড়ির নদী, পাশের বাড়ির ছাদ ,
এমন কি ইস্কুলের জানালা দিয়ে দেখা ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি ! 
তাও ভেঙে ফেলল ওরা !

ঠিক তখনই নেমে এলো অন্ধকার, 
এক বুক জোনাকি নিয়ে জড়িয়ে ধরলো ওকে

"তোর নাম কি রে ? " ফিসফিসিয়ে জানতে চাইল মেয়েটা,
"কেন , চিনলি না আমায়? আমি যে তোর নীল পরী "
"ওহ, তাই বুঝি এত দেরি করে এলে ? "
টুপ করে একটা শব্দ, 
ও কিছু না ! 
ঘাসের উপর গড়িয়ে পড়লো আরেক ফোঁটা রক্ত

---
জায়গা রাখিস থেকে

নীলখাম - সময় ছিঁড়ছে নীল খাম

blue_envelope_poem
ছবিটি সংগৃহীত
নীলখাম
অনিতাদিকে ভালো শাড়ি পরতে দেখিনি কখনো।
অন্য দিদিমনিদের পাশে বড্ড বেমানান।
রং -জ্বলা দু -তিনটে সিন্থেটিক শাড়ির একঘেয়ে নিঃশব্দ আবর্তন।

ব্লাকবোর্ডে মুখ ঘষে ঘষে ফুরিয়ে যাচ্ছে চক।
মূর্ত হৃৎপিণ্ড, ধমনী, শিরা -উপশিরা।
ভাগাভাগি হৃৎপিণ্ড - এপাশে লাল 
নীলকন্ঠ রঙে রাঙানো ওপাশ।
পিছনের বেঞ্চে সকৌতুক কৈশোরী ফিসফাস, 
ঠোঁট চাপা হাসি চোখের অবাধ্যতায়।
ভাঁজে ভাঁজে সংকুচিত সিন্থেটিক শাড়ি, অনাবৃতা গোড়ালি।
ঢিলেঢালা অন্তর্বাসের শিশুসুলভ উঁকি ঝুঁকি।
ফরসা খড়ি ওঠা চামড়া, ফ্যাকাসে টানা টানা চোখ।
অতি বড় আনাড়ি পুরুষ ও বলে দেবে এ নেহাতই অবহেলা।

নীল খামে মোড়া প্রশ্নপত্র উড়ত স্কুল চত্ত্বরে।
সেদিন হঠাৎ সুপর্ণার সঙ্গে দেখা।
সুন্দরী সুপর্ণা, স্কুলের গর্ব সুপর্ণা।
বয়েজ স্কুলের মেধাবী দূর্বারাজদা -
চুপিচুপি চিঠি, লুকিয়ে চুরিয়ে দেখা।
সে নাকি ওয়েল সেটলড বিদেশে!

জীবন বিজ্ঞান এর ম্যাডাম সুপর্ণার পরনেও এখন সিন্থেটিক শাড়ি।
ফ্যাকাসে টানাটানা চোখ - বড্ড বেমানান।

সময় ছিঁড়ছে নীল খাম।

প্রাইভেট টিউশনি দরকার হয়

private_tution
ছবিটি সংগৃহীত

প্রাইভেট টিউশনি

প্রথমেই বলে নেওয়া দরকার, আমি ব‍্যক্তিগতভাবে প্রাইভেট টিউশনির সাথে যুক্ত নই। ব‍্যক্তিগতভাবে যুক্ত থাকতে পছন্দও করি না। এ বিষয়ে আমার অভিমত হল, এমন একটি পরিকাঠামো ও কারিকুলাম তৈরি করা দরকার,যাতে প্রাইভেট টিউশনি দরকার না হয়। শ্রেণিকক্ষেই যাতে করে শিক্ষার্থীর সব চাহিদা পূরণ হয়। আর যতদিন তা না করা যায়, যতদিন প্রাইভেট টিউশনি দরকার হয়; ততদিন তা থেকে স্কুলশিক্ষকদের আইন করে বিরত করা বাঞ্ছনীয় নয়। 
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর স্বার্থেই তা করা উচিত নয়। কেননা, সঠিক নিয়ম মেনে তাঁদের কাছেই ঠিকঠাক গাইড পাবে ছাত্রছাত্রীরা। এর প্রধানত কারণ ছ'টি---
১. শিক্ষকগণ শ্রেণিকক্ষ সিচুয়েশনে পঠনপাঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন,যা প্রতিনিয়ত উন্নত থেকে উন্নততর পাঠদানের সহায়ক।
২. পাঠ‍্যসূচির নিয়মিত পরিবর্তন ও পুরো শিক্ষাবর্ষের পাঠপরিকল্পনা ও পাঠ বিভাজনের সাথে শিক্ষকগণই সবচেয়ে বেশি সড়গড় থাকেন।
৩. বিজ্ঞানসম্মত পাঠদান পদ্ধতি, প্রশ্নপত্র তৈরির কৃৎকৌশল, নম্বর বিভাজন ইত‍্যাদি বিষয়ে শিক্ষকগণের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অপেক্ষাকৃত বেশি।
৪.পাঠ‍্যসূচি, পঠনপাঠন, প্রশ্নপত্র তৈরি,মূল‍্যায়ণ ইত‍্যাদি বিষয়ে পর্যদ, সংসদ,সর্বশিক্ষা মিশন আয়োজিত কর্মশালায় শিক্ষকগণই অংশগ্রহণ করেন।
৫. সর্বোপরি উত্তরপত্রের মূল‍্যায়ণ (স্কুল, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক --- যা অত্যন্ত কনফিডেনসিয়াল),তার সঠিক গাইডলাইন ও সেই অনুযায়ী আদর্শ উত্তরপত্র তৈরি করার কৃৎকৌশল জানার সুযোগ শিক্ষকগণেরই থাকে।
৬. উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পাঠ‍্যসূচি শ্রেণিকক্ষে সম্পূর্ণ করা প্রায় অসম্ভব। বহু স্কুলে ঠিকঠাক বিষয়শিক্ষকও নেই! এরপর আছে JEE, NIIT ইত‍্যাদির মতো পড়াশোনা।সে তো আর স্কুলে পড়ানো হয় না। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ বিষয় শিক্ষকদের কাছে তো যেতেই হবে! আইন করে তা বন্ধ করা হলে আমাদের আগামী প্রজন্মই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মফঃস্বলের ক'জন ছেলেমেয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে নামিদামি কোচিং সেন্টারে ভরতি হতে পারবে! আর দূরের ছেলেমেয়েরা একই সঙ্গে স্কুল ও কোচিং সেন্টার তো করতে পারবে না!

একটি শিক্ষিকার অনুগল্প - শিক্ষকতা পেশা খুব ভাগ্য করলে পাওয়া যায়

school_teacher
ছবিটি সংগৃহীত

একটি শিক্ষিকার অনুগল্প  


আজ খুব ইচ্ছে করছে একটি অনুগল্প লিখতে ........প্রথমে বলে নি ঘটনা সম্পূর্ন কাল্পনিক , যদি কোনো মানুষের জীবনের সাথে মিশে যায় তা সম্পূর্ন কাকতালীয় ..
দিদিমনি র কান্ড .......
সল্বোনি স্কুলে এক নতুন দিদিমনি এলো , বিয়ে হয়ে গেছে একটি ছোটো ছেলে ও আছে । বেশ দেখতে মেয়েটিকে ...স্কুলের sir এরা খুব খুশী এমন সুন্দর একটা মহিলা কলিগ পেয়ে , খুব উত্তেজক পোশাক পরে আসতো দিদিমনি । সবাই ওকে নিয়ে খুব মজা করতো .দূরের শহর থেকে আসে গ্রামের স্কুলে । বেচারা দিদিমনির বর scorpio গাড়ি করে বৌ কে ছেড়ে দিয়ে যেত । ভদ্রলোক ভীষন ভালো , স্ত্রী অন্ত প্রান , সুন্দরী বৌ কে খুব ই ভালোবাসেন। দিদিমনি র কিন্তু বরের প্রতি তত টা ভালোবাসা নেই । নিজের সাজগোজ আর সুন্দর রূপ নিয়ে ব্যস্ত ছিল । সবার সাথে খুব একটা মিশত না সে ...সারাদিন ফেসবুকে ব্যস্ত খুঁজে বেড়াতো সুন্দর ছেলে দের । বহু ছেলে র সাথে ফোনালাপে কেটে যেতো সারাদিন । ঘরের মেয়ে টি কে ও দিদিমনি কোনদিন ভালোবাসে নি । এই ভাবে কেটে যাচ্ছিলো দিনগুলো । কালো রং ওর ভালো লাগে না তাই কলিগ দের মধ্যে সবচেয়ে সাদা একজন কে পছন্দ করলো । প্রথম ফেসবুক তারপর ফোনে সারাদিন কেটে যেত দুজনের । একদিন আবেগ সামলাতে না পেরে স্কুল ঘরের মধ্যে দুজন দুজন কে একান্তে পেতে চাইলো । আর ছাত্র রা দরজা বন্ধ করে দিয়ে ক্লাস বয়কট করলো । নিরুপায় হয়ে প্রধান শিক্ষক ফোন করলেন দিদিমনি র কালো বর কে । scorpio নিয়ে এলেন সুজন বাবু , অতসী দিদিমনি র বর । কিন্তু সবাই অবাক হয়ে দেখলো তিনি এসে অতসী দিদিমনি কে জড়িয়ে ধরে বললেন তোমায় রক্ষা করার দায়িত্বটা ও যে আমার গো । তবে তুমি আজ তোমার বিদ্যালয়ে তোমার সমস্ত ছাত্র ছাত্রী দের কাছে খুব ছোটো হয়ে গেলে ....চলো ঘরে চলো .................
উপদেশ ॥ শিক্ষকতা পেশা খুব ভাগ্য করলে পাওয়া যায় , তাই এমন কিছু করবেন না যাতে নিজের সন্মান হানি হয় ।

Find Us On Facebook

Find Us On Google+

Popular Posts

Recent Posts

Unordered List

Text Widget

Powered by Blogger.