ছবিটি সংগৃহীত
প্রাইভেট টিউশনি
প্রথমেই বলে নেওয়া দরকার, আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রাইভেট টিউশনির সাথে যুক্ত নই। ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত থাকতে পছন্দও করি না। এ বিষয়ে আমার অভিমত হল, এমন একটি পরিকাঠামো ও কারিকুলাম তৈরি করা দরকার,যাতে প্রাইভেট টিউশনি দরকার না হয়। শ্রেণিকক্ষেই যাতে করে শিক্ষার্থীর সব চাহিদা পূরণ হয়। আর যতদিন তা না করা যায়, যতদিন প্রাইভেট টিউশনি দরকার হয়; ততদিন তা থেকে স্কুলশিক্ষকদের আইন করে বিরত করা বাঞ্ছনীয় নয়।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর স্বার্থেই তা করা উচিত নয়। কেননা, সঠিক নিয়ম মেনে তাঁদের কাছেই ঠিকঠাক গাইড পাবে ছাত্রছাত্রীরা। এর প্রধানত কারণ ছ'টি---
১. শিক্ষকগণ শ্রেণিকক্ষ সিচুয়েশনে পঠনপাঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন,যা প্রতিনিয়ত উন্নত থেকে উন্নততর পাঠদানের সহায়ক।
২. পাঠ্যসূচির নিয়মিত পরিবর্তন ও পুরো শিক্ষাবর্ষের পাঠপরিকল্পনা ও পাঠ বিভাজনের সাথে শিক্ষকগণই সবচেয়ে বেশি সড়গড় থাকেন।
৩. বিজ্ঞানসম্মত পাঠদান পদ্ধতি, প্রশ্নপত্র তৈরির কৃৎকৌশল, নম্বর বিভাজন ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষকগণের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অপেক্ষাকৃত বেশি।
৪.পাঠ্যসূচি, পঠনপাঠন, প্রশ্নপত্র তৈরি,মূল্যায়ণ ইত্যাদি বিষয়ে পর্যদ, সংসদ,সর্বশিক্ষা মিশন আয়োজিত কর্মশালায় শিক্ষকগণই অংশগ্রহণ করেন।
৫. সর্বোপরি উত্তরপত্রের মূল্যায়ণ (স্কুল, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক --- যা অত্যন্ত কনফিডেনসিয়াল),তার সঠিক গাইডলাইন ও সেই অনুযায়ী আদর্শ উত্তরপত্র তৈরি করার কৃৎকৌশল জানার সুযোগ শিক্ষকগণেরই থাকে।
৬. উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পাঠ্যসূচি শ্রেণিকক্ষে সম্পূর্ণ করা প্রায় অসম্ভব। বহু স্কুলে ঠিকঠাক বিষয়শিক্ষকও নেই! এরপর আছে JEE, NIIT ইত্যাদির মতো পড়াশোনা।সে তো আর স্কুলে পড়ানো হয় না। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ বিষয় শিক্ষকদের কাছে তো যেতেই হবে! আইন করে তা বন্ধ করা হলে আমাদের আগামী প্রজন্মই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মফঃস্বলের ক'জন ছেলেমেয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে নামিদামি কোচিং সেন্টারে ভরতি হতে পারবে! আর দূরের ছেলেমেয়েরা একই সঙ্গে স্কুল ও কোচিং সেন্টার তো করতে পারবে না!

0 comments:
Post a Comment