![]() |
| ছবিটি সংগৃহীত |
নীলখাম
অনিতাদিকে ভালো শাড়ি পরতে দেখিনি কখনো।
অন্য দিদিমনিদের পাশে বড্ড বেমানান।
রং -জ্বলা দু -তিনটে সিন্থেটিক শাড়ির একঘেয়ে নিঃশব্দ আবর্তন।
ব্লাকবোর্ডে মুখ ঘষে ঘষে ফুরিয়ে যাচ্ছে চক।
মূর্ত হৃৎপিণ্ড, ধমনী, শিরা -উপশিরা।
ভাগাভাগি হৃৎপিণ্ড - এপাশে লাল
নীলকন্ঠ রঙে রাঙানো ওপাশ।
পিছনের বেঞ্চে সকৌতুক কৈশোরী ফিসফাস,
ঠোঁট চাপা হাসি চোখের অবাধ্যতায়।
ভাঁজে ভাঁজে সংকুচিত সিন্থেটিক শাড়ি, অনাবৃতা গোড়ালি।
ঢিলেঢালা অন্তর্বাসের শিশুসুলভ উঁকি ঝুঁকি।
ফরসা খড়ি ওঠা চামড়া, ফ্যাকাসে টানা টানা চোখ।
অতি বড় আনাড়ি পুরুষ ও বলে দেবে এ নেহাতই অবহেলা।
নীল খামে মোড়া প্রশ্নপত্র উড়ত স্কুল চত্ত্বরে।
সেদিন হঠাৎ সুপর্ণার সঙ্গে দেখা।
সুন্দরী সুপর্ণা, স্কুলের গর্ব সুপর্ণা।
বয়েজ স্কুলের মেধাবী দূর্বারাজদা -
চুপিচুপি চিঠি, লুকিয়ে চুরিয়ে দেখা।
সে নাকি ওয়েল সেটলড বিদেশে!
জীবন বিজ্ঞান এর ম্যাডাম সুপর্ণার পরনেও এখন সিন্থেটিক শাড়ি।
ফ্যাকাসে টানাটানা চোখ - বড্ড বেমানান।
সময় ছিঁড়ছে নীল খাম।

0 comments:
Post a Comment