collected from google
তখন নেহাতই অর্বাচীন। রেডিওতে তাঁর নাম শুনতাম পটল বিহারী বাজপাখি। আর হাসতাম খুব। তারপর যখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তখন আমি কলেজ। ১৩ দিনের পর ১৩মাস। তারপর স্থায়ী সরকার। তখনও খুব একটা মনে ধরেনি তাঁকে। দেশনেতার মধ্যে যে হিরোইসম, যে ক্যারিশ্মা, যে আগ্রাসন থাকার কথা তাও পাইনি। বরং ধীরে ধীরে হাঁটা, থেমে থেমে নিচু গলায় কথা বলা দেখে ব্যঙ্গও করেছি। অটল না হয়ে টলমল বিহারী হলে ভালো হতো। এছাড়া কারগিল কাণ্ডে গোয়েন্দা দপ্তরের ব্যর্থতা, কফিন কেলেঙ্কারির জন্য খবর দেখে প্রভাবিতও হয়েছি।
কিন্তু তারপর যখন তাঁর দল ক্ষমতায় নেই। তখন গ্রামে গ্রামে জলকাদা ভরা রাস্তা গুলোতে গিয়ে অবাক! প্রায় সব রাস্তা ঢালাই বা পিচ। ফলক লাগানো 'প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা'। সেদিন অনুভব করেছি হাঁটুর সমস্যায় নিজে ভালো করে হাঁটতে না পারলেও, প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষেরা নিরাপদে হাঁটতে পেরেছে তাঁরই কল্যানে। গ্রামে ঢুকতে পেরেছে অ্যাম্বুলেন্স।
আর আজ যখন দুর্গাপুর এক্সপ্রেস ওয়ে দিয়ে দুরন্ত বেগে বাইক চালাই তখন দেখি বাঁকুড়া, দুর্গাপুর, বর্ধমানের মানুষেরা কেমন অল্প সময়ে পৌঁছে যাচ্ছেন কলকাতায়। তাঁর সোনালী চতুর্ভুজের ওই রাস্তা বিপ্লব এনেছে যোগাযোগ ব্যবস্থায়। দিল্লী রোড, জিটি রোড থাকলেও বাংলার মানুষ প্রথম হাইরোডের গতি পেয়েছে তাঁরই পরিকল্পনায়।
যখন দেখি মুম্বাই ভাসছে বন্যায়,এদিকে অন্ধ্রে খরা পরিস্থিতি, তখন অনুভব করেছি তাঁর নদী সংযুক্তিকরনের ভাবনা কতোটা যুক্তিসঙ্গত ছিল।
সর্বশিক্ষা অভিযানের রূপকার তিনি। এই প্রকল্পের স্পর্শে ভারতের বিদ্যালয় শিক্ষার চালচিত্রই বদলে যায়। মরা গাঙে আসে জোয়ার। তার সুফল আজ ভোগ করছে ভারতবাসী।
উগ্রতা ছিলোনা তাঁর মধ্যে।আর ছিলোনা বলেই জাত ধর্ম না দেখে আব্দুল কালামকে বসিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতির পদে। ভারত পেয়েছিলো একজন প্রকৃত শিক্ষিত চিন্তাশীল অরাজনৈতিক রাষ্ট্রপতি। এতে তাঁর অবদান কম নয়।
আবার যেদিন কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মায়ের পা ছুঁলেন। সেদিন বুঝেছি বিনয়ী কাকে বলে। পদমর্যাদা কখনোই বাধা হয়না সৌজন্যবোধে। শিখিয়েছেন তিনি।
আজ যখন নেতা নেত্রীদের আস্ফালন, বুলিবচন, ভুলবকায় কান ঝালাপালা। তখন মনে হয় তিনি ছিলেন, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবার নীতিতে বিশ্বাসী।
আজ তাঁর চলে যাবার দিনে খারাপ লাগছে এই ভেবে যে সেদিন সঠিক মূল্যায়ন করতে পারিনি তাঁর। তিনি ছিলেন রাজনীতির রাহুল দ্রাবিড়। সৌজন্য ভদ্রতা বজায় রেখে নীরবে কাজ করায় বিশ্বাসী। শ্রদ্ধা রইলো তাঁর প্রতি। দেশ হারালো একজন চিন্তাশীল প্রধানমন্ত্রীকে। বিদায় বাজপেয়ী। রেস্ট ইন পিস।
কিন্তু তারপর যখন তাঁর দল ক্ষমতায় নেই। তখন গ্রামে গ্রামে জলকাদা ভরা রাস্তা গুলোতে গিয়ে অবাক! প্রায় সব রাস্তা ঢালাই বা পিচ। ফলক লাগানো 'প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা'। সেদিন অনুভব করেছি হাঁটুর সমস্যায় নিজে ভালো করে হাঁটতে না পারলেও, প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষেরা নিরাপদে হাঁটতে পেরেছে তাঁরই কল্যানে। গ্রামে ঢুকতে পেরেছে অ্যাম্বুলেন্স।
আর আজ যখন দুর্গাপুর এক্সপ্রেস ওয়ে দিয়ে দুরন্ত বেগে বাইক চালাই তখন দেখি বাঁকুড়া, দুর্গাপুর, বর্ধমানের মানুষেরা কেমন অল্প সময়ে পৌঁছে যাচ্ছেন কলকাতায়। তাঁর সোনালী চতুর্ভুজের ওই রাস্তা বিপ্লব এনেছে যোগাযোগ ব্যবস্থায়। দিল্লী রোড, জিটি রোড থাকলেও বাংলার মানুষ প্রথম হাইরোডের গতি পেয়েছে তাঁরই পরিকল্পনায়।
যখন দেখি মুম্বাই ভাসছে বন্যায়,এদিকে অন্ধ্রে খরা পরিস্থিতি, তখন অনুভব করেছি তাঁর নদী সংযুক্তিকরনের ভাবনা কতোটা যুক্তিসঙ্গত ছিল।
সর্বশিক্ষা অভিযানের রূপকার তিনি। এই প্রকল্পের স্পর্শে ভারতের বিদ্যালয় শিক্ষার চালচিত্রই বদলে যায়। মরা গাঙে আসে জোয়ার। তার সুফল আজ ভোগ করছে ভারতবাসী।
উগ্রতা ছিলোনা তাঁর মধ্যে।আর ছিলোনা বলেই জাত ধর্ম না দেখে আব্দুল কালামকে বসিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতির পদে। ভারত পেয়েছিলো একজন প্রকৃত শিক্ষিত চিন্তাশীল অরাজনৈতিক রাষ্ট্রপতি। এতে তাঁর অবদান কম নয়।
আবার যেদিন কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মায়ের পা ছুঁলেন। সেদিন বুঝেছি বিনয়ী কাকে বলে। পদমর্যাদা কখনোই বাধা হয়না সৌজন্যবোধে। শিখিয়েছেন তিনি।
আজ যখন নেতা নেত্রীদের আস্ফালন, বুলিবচন, ভুলবকায় কান ঝালাপালা। তখন মনে হয় তিনি ছিলেন, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবার নীতিতে বিশ্বাসী।
আজ তাঁর চলে যাবার দিনে খারাপ লাগছে এই ভেবে যে সেদিন সঠিক মূল্যায়ন করতে পারিনি তাঁর। তিনি ছিলেন রাজনীতির রাহুল দ্রাবিড়। সৌজন্য ভদ্রতা বজায় রেখে নীরবে কাজ করায় বিশ্বাসী। শ্রদ্ধা রইলো তাঁর প্রতি। দেশ হারালো একজন চিন্তাশীল প্রধানমন্ত্রীকে। বিদায় বাজপেয়ী। রেস্ট ইন পিস।


